Health

সঠিক বয়সে,সময়োপযোগী, সুষম খাবারঃ শিশুর বৃদ্ধির উপযোগী

সুষম খাবার আসলে কোন একটি খাবার না। বরং সারাদিনে সঠিকভাবে খাওয়া বিভিন্নরকম খাবারের সমষ্টি। সুতরাং সকালের নাস্তায় যদি কিছু ভিটামিন অনুপস্থিত থাকে সেটা আবার দুপুরের খাবার দিয়ে পুরণ হয়ে যায়। আবার, রাতের খাবারে এসে হয়ত কিছু মিনারেল বা খনিজ উপাদান থাকে। সারাদিনই আমরা পানি, বা ফলমূল খাই। সবগুলো মিলিয়েই সুষম খাবার।

কাজেই বোঝাই যাচ্ছে যে একই রকম খাবার বার বার খেতে থাকলে কোন ভিটামিন বা মিনারেল বা অন্য কোন খাদ্য উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলশ্রুতিতে বাচ্চার অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।

শিশুর খাবার কেমন হওয়া চাই?

উপরের আলোচনা থেকেই স্পষ্ট যে খাবার সুষম হতে হবে। সহজে বোঝানোর জন্য বলা যায় পাচ ধরণের খাবার আমাদের খেতে হবে।

খাবারের উপাদানঃ

১। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা (carbohydrate)- এগুলো খাবারের মূল উপাদান। যেমন- ভাত, আলু, চিনি, রুটি, সাগু, বার্লি ইত্যাদি। এগুলো শারীরিক কার্যক্রমের শক্তির মূল উৎস। 

২। প্রোর্টিন বা আমিষ (Protein)- এগুলো শরীর গঠনের উপাদান। এগুলো থেকেই মাংস, হাড় ইত্যাদি তৈরি হয়। শরীর 

৩। ফ্যাট বা চর্বি (Fat)

৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ (Vitamin)

৫। খনিজ উপাদান (Minerals)

৬। পানি (Water)

৬ -৮ বয়সী শিশুর খাবার:-

বাবুর বয়স ৬ মাস হয়ে গেলে তাকে বুকের দুধএর পাশাপাশি বাড়তি খাবার দেয়া শুরু করতে হবে। এই সময়ে শিশুর খাবার হবে বুকের দুধ (breast feeding) এবং বাড়তি খাবার (complementary food)। ৬-৮ মাসের সময়টাতে বুকের দুধের পাশাপাশি ২৫০মিলি ধারণ ক্ষমতার বোল (bowl) এর অর্ধেক করে ২ বার খাবার দিতে হবে। এছাড়া, ১-২ বার হালকা নাস্তা জাতীয় খাবার দেয়া যেতে পারে।উদ্দেশ্য থাকবে বাবু যেন ২০০ কি.ক্যা. পরিমাণ এনার্জি পায়।

৯-১২ মাস বয়সিদের খাবার:-

৩ বেলা ভারি খাবার । দুইবেলা পুষ্টিকর নাস্তা খাবে। পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ খাবে।

১২-২৪ মাসের  শিশুর খাবার তালিকা কেমন হবে?

বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার চলবে। এই সময়টাতে বুকের দুধের পাশাপাশি ২৫০মিলি ধারণ ক্ষমতার বোল (bowl) এর পুরোটা করে ৩ বার খাবার দিতে হবে। এছাড়া, ১-২ বার হালকা নাস্তা জাতীয় খাবার দেয়া যেতে পারে। উদ্দেশ্য থাকবে বাবু যেন ৫৫০কি.ক্যা. পরিমাণ এনার্জি এই বাড়তি খাবার পেয়ে যায়।

শিশুর বাড়তি খাবার কিভাবে শুরু করবেন?

০৬ (ছয়) মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর বাড়তি খাবার শুরু করবেন। একেকটি খাবার একেক বারে শুরু করবেন। একটি খাবার শুরুর ৭-১০ দিন পর আরো একটি খাবার শুরু করবেন। এক বছর বয়স হওয়ার আগে ধীরে ধীরে তাকে ঘরে রান্না হয় এমন সবগুলো খাবারে অভ্যস্ত করে তুলবেন।

উদাহারণ হিসেবে, বাবুর বয়স ১৮০দিন হওয়ার পর তাকে কলা দিতে পারেন। সে শুধু বুকের দুধ ও কলা খাবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খেয়াল রাখবেনঃ

১। খাবার ব্লেন্ড করবেন না

বরং প্রয়োজন বোধে হাতে কচলিয়ে দিবেন। ব্লেন্ড করা খাবার একদম নরম হয়। এর ফলে বাচ্চাকে ঐ খাবার খাওয়ার জন্য চিবুতে হয় না। ফলে, মাড়ি, দাঁত, চোয়াল, ও মাংসপেশির উপর চাপ পড়ে না। এগুলো দুর্বল থাকে। দাঁতের উপরের স্তর বা এনামেল পাতলা হওয়ায় দাঁত সহজেই ক্ষয় হয়ে যায় (ডেন্টাল ক্যারিজ হয়)।

২। খাওয়ানোর সময়

বাবুকে দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়াবেন না এবং খাওয়ার জন্য জোড় করবেন না। এতে দীর্ঘমেয়াদে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এক. বাবু খাওয়াটাকে খেলা হিসেবে নেয়। ফলে, খাওয়াটার পিছনে সময় বেশি গেলেও খাওয়া কম হয়। দুই. খিদে লাগলে খেতে হয় এবং খিদে চলে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হয় এই বিষয়টা বাবু শিখে না। ফলে, পরবর্তী জীবনেও খাওয়ায় অনিয়ম করায় অভ্যস্ত হয়। তিন. খাবার বাছাবাছি করার প্রবণতা তৈরি হয়। 

৩। শিশুর খাবার রুটিন

রুটিন খুবই গুরুত্বপুর্ণ। নির্দিষ্ট একটা সময়ে খাওয়ার (এবং খাওয়ানোর) চেষ্টা করবেন। এতে বাবুর মধ্যে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে। এটা সারাজীবনই তার জন্য উপকারী হবে। সাধারণ নিয়ম হলো ৩টা মূল খাবার 

৪। একত্রে বসে খাওয়া

পরিবারের সবাই একসাথে বসে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সবাই বসে বাবুর জন্যও একটা প্লেটে আলাদা করে খাবার দিবেন। বাচ্চারা অনুকরণ করা পছন্দ করে। ফলে, সে মা-বাবাকে খেতে দেখে নিজেও খেতে আগ্রহী হবে। সবার খাওয়া শেষ হয়ে গেলে শেষ খাবারটুকু হয়তো তুলে খাইয়ে দিবেন। যত তাড়াতাড়ি বাবু নিজে খেতে শিখবে তত ভালো।

৫। খাবারে বৈচিত্র

খাবারে বৈচিত্র থাকা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। বাবুকে বিভিন্ন ধরণের খাবার খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। একই খাবারে অভ্যস্ত না করে যত বেশি প্রকার খাবার সম্ভব তাকে খেতে দিন। এতে বাবুটা সব রকমের পুষ্টি উপাদান পেয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button