Health

রক্তের প্লাটিলেট কমে গেলে কি করতে হবে বা কি খেতে হবে?

মানবদেহে থাকা তিন ধরনের রক্তকণিকার সবচেয়ে ছোট আকারটি হলো প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকা। অন্যগুলো RBC,WBC। রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে প্লাটিলেট। এই রক্তকণিকার কারণেই শরীরের কোথাও কেটে গেলে দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে থাকে।এটি নিজে থেকেই বাড়তে থাকে। ১৫০০০০-৪৫০০০০ পর্যন্ত স্বাভাবিক মাত্রা।

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণ কী?

আসলে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো দুটি- প্লাটিলেট ধ্বংস হয়ে যাওয়া আর নয়তো পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি না হওয়া। যখন রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট কমতে শুরু করে; তখন তাকে বলা হয় থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া।

যখন প্লাটিলেট কমে যায়, একটা নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে চলে যায়, তখন কিছু লক্ষণ দেখা যায়। চামড়ার নিচে লাল লাল র‍্যাশ দেখা দেয়। দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে। নারীদের পিরিয়ডের সঙ্গে অতিরিক্ত রক্ত বেরিয়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও হতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রে এমন হয়। আর কোথাও কেটে গেলে কারও ছোপ ছোপ দাগ হয়।

ডেঙ্গু জ্বর হলে রক্তের প্লাটিলেট কমে যায় কেন?

ডেঙ্গু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্লাটিলেটের বিষয়টি সকলের মাথায় বেশি করে ঘোরাফেরা করে। ডেঙ্গুর সবথেকে ভয়াবহ বিষয়টিই হল দ্রুত গতিতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ভাইরাস প্লাটিলেট তৈরি হতে বাধা সৃষ্টি করে , আবার ইমিউনিটি সিস্টেম ভুল করে প্লাটিলেট নষ্ট করে দিতে পারে। তখনই সঙ্কটটা বড় হয়ে দেখা দেয়।

এ জ্বর হলে রক্তের সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করার মাধ্যমে প্লাটিলেটের সংখ্যা নিরূপণ করা হয়। প্লাটিলেটের সংখ্যা এক লাখের কম হলে তাকে হেমোরেজিক বলে ধরে নেওয়া যায়।

প্লাটিলেট কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে কিন্তু ডেঙ্গুর তীব্রতা মাপা হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাটিলেট কমে গিয়ে নয় বরং রোগী মারা যায় ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে। অর্থাৎ ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে রক্তনালিগুলো আক্রান্ত হয়। রক্তনালির গায়ে যে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে সেগুলো বড় হয়ে যায়। তা দিয়ে রক্তের জলীয় উপাদান বা রক্তরস বের হয়ে আসে।প্লাটিলেট ২০,০০০ এর কম হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এবং রক্ত/প্লাটিলেট শরীরে ভরতে হবে।

তখন রক্তচাপ কমতে থাকে, পিসিভি বা প্যাকড সেল ভলিউম বাড়তে থাকে। এটা ঠেকাতে তখন রোগীকে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা তরল দিতে হবে। এই তরল মুখে খাওয়ানো যেতে পারে বা শিরায় দেওয়া হয়ে থাকে।

কি কব খাবারে প্লাটিলেট বাড়ে?

পেঁপে: প্লাটিলেট বাড়াতে পেঁপের জুস খেতে পারেন। পেঁপেপাতা অণুচক্রিকা বাড়াতে সাহায্য করে বলে ডেঙ্গুতে উপকারী। পেঁপেপাতা বেটে রস করে পান করতে পারেন। এ ছাড়া পাতা সেদ্ধ করেও খাওয়া যায়।

ব্রোকলি: ভিটামিন ‘কে’– এর দারুণ উৎস ব্রোকলি, যা রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। যদি দ্রুত কমতে থাকে, তবে প্রতিদিনকার খাবারে অবশ্যই ব্রোকলি যুক্ত করবেন। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা উপকারী খনিজ রয়েছে।

বেদানা: বেদানায় দরকারি নানা পুষ্টি ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে পারে। শরীরের ধকল কাটাতে বেদানা দারুণ উপকারী। এ ছাড়া এটি আয়রনের উৎস বলে রক্তের জন্য উপকারী। প্লাটিলেটের সংখ্যা স্বাভাবিক রাখতে এবং ডেঙ্গু সারাতে এটি উপকারী।

পালং: আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস পালং। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া শরীরে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে পারে।

ডাব: ডাবের পানিতে খনিজ বা ইলেকট্রোলাইটস আছে, যা ডেঙ্গু জ্বরে খুবই দরকারি।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার শরীরে স্বাস্থ্যকর কোষ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জন্য এই ভিটামিন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। আয়রনের ঘাটতি পূরণে খাবারের তালিকায় রাখুন কুমড়ার বীজ, বেদানা, মসুর ডাল ও সবুজ শাক জাতীয় খাবার। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার প্লাটিলেট গ্রুপকে একসঙ্গে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এই ভিটামিন শরীরে আয়রণ শোষণেও সাহায্য করে, ফলে রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়ে সহজেই। লেবু, কমলা, আম, ব্রকলি, আনারস, টমেটো, ক্যাপ্সিকাম, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি এবং আমলকি নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে পাবেন পর্যাপ্ত ভিটামিন সি।

Back to top button